এইডেন ম্যাকমিলান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক কিশোর। বয়স মাত্র ১২ বছর। কিন্তু তার কীর্তি অনেক প্রাপ্তবয়স্ক বিজ্ঞানীকেও বিস্মিত করেছে। ঘরে বসেই সে তৈরি করেছে একটি পরীক্ষামূলক পরমাণু চুল্লি, যেখান থেকে উৎপন্ন হচ্ছে নিউট্রন কণা।
ফিউশন বনাম ফিশন: পার্থক্য কোথায়
ফিউশন এবং ফিশন—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের পারমাণবিক বিক্রিয়া।
- ফিশন বিক্রিয়া ঘটে প্রচলিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে
- যেমন: রূপপুর বা চেরনোবিলের মতো স্থাপনাগুলোতে
- ফিউশন বিক্রিয়া ঘটে সূর্যের ভেতরে
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিপুল শক্তি উৎপন্ন করে
পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রিতভাবে ফিউশন ঘটানো অত্যন্ত কঠিন—অনেক বিজ্ঞানীর মতে এটি প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ এতে প্রয়োজন অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ।
সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর অসাধারণ প্রচেষ্টা
সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া এইডেন এই জটিল কাজটিই করার চেষ্টা শুরু করে অল্প বয়সেই।
- প্রায় দুই বছর ধরে নিউক্লিয়ার ফিজিকস নিয়ে পড়াশোনা করেছে
- শিখেছে তত্ত্ব (Theory) এবং নিরাপত্তা (Safety) বিষয়গুলো
- চার বছর ধরে বারবার ব্যর্থ হয়েছে
তবে শেষ পর্যন্ত সে তৈরি করতে সক্ষম হয় একটি 'নিউক্লিয়ার ফিউশন ডিভাইস', যা ক্ষুদ্র পরিসরে নিউট্রন কণা উৎপন্ন করতে পারে।
এই সাফল্য অর্জনের পথে তার যাত্রা ছিল দীর্ঘ ও হতাশায় ভরা—
তবু সে থেমে যায়নি। প্রতিটি ব্যর্থতা যেন তাকে আরও দৃঢ় করেছে, আরও মনোযোগী করেছে তার লক্ষ্যপানে।
সহায়তা দিয়েছে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান
এই গবেষণামূলক কাজে এইডেন সহায়তা পেয়েছে 'লঞ্চপ্যাড' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।
এই প্রতিষ্ঠানটি—
- বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে
- গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়
- তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করে বাস্তব পরীক্ষায় অংশ নিতে
বিশ্বরেকর্ডের অপেক্ষায়
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইডেন এখন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর অপেক্ষায় রয়েছে।
তার লক্ষ্য স্পষ্ট—
ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হিসেবে নিউক্লিয়ার ফিউশন ঘটানোর স্বীকৃতি অর্জন করা।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চায় অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।